কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সকালে আগুন, শুরু হয় উদ্ধার অভিযান
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবনের ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধারকাজ চলাকালে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছানোর খবর প্রকাশিত হয়। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কাঠের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন
বিভিন্ন প্রতিবেদনে রিসোর্টটিকে কাঠের তৈরি তিনতলা স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবনটিতে পর্যটকদের থাকার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। কাঠের স্থাপনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় এ ধরনের ভবনে কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নার সরঞ্জাম কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষা করতে হবে।
উত্তরায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫০
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ও সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন এলাকার হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জরুরি বহির্গমনপথ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করেন। এসব এলাকায় পর্যটকদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা রিসোর্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক স্থাপনায় আগুন শনাক্ত করার অ্যালার্ম, কার্যকর অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম এবং নিরাপদে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কর্মীদেরও জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ থাকা উচিত।
তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তদন্তে অবহেলা বা বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইনানীর এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রের আবাসিক স্থাপনাগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
প্রতিবেদন: GLOBAL 24 ডেস্ক
সম্পাদকের নোট: প্রকাশের আগে নিহত ও আহতের সংখ্যা এবং অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্যের সর্বশেষ সরকারি নিশ্চিতকরণ যাচাই করুন।





মন্তব্য