বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে নতুন গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক শেষে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সংশোধিত নির্দেশনা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের চলাচল ও রাতযাপনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে নভেম্বর মাসে দ্বীপটিতে দিনের বেলায় ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও পর্যটকদের সেখানে রাতে থাকার সুযোগ নেই। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিত সংখ্যক পর্যটক রাতযাপনের অনুমতি পেয়ে থাকেন।
সম্প্রতি এই ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে পর্যটকদের অল্প সময় দ্বীপে অবস্থান করে আবার কক্সবাজারে ফিরে যাওয়া অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে রাতযাপনের সময় কিছুটা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং রাতযাপনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তবে পর্যটকের দৈনিক সংখ্যা কত হবে কিংবা কোন সময় পর্যন্ত পর্যটকদের অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক ও মতামত গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত গাইডলাইন তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ রক্ষায় থাকতে পারে কঠোর বিধিনিষেধ
রাতযাপনের সুযোগ বাড়ানোর আলোচনা হলেও সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার নিয়মগুলো শিথিল করা হচ্ছে না। বরং দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখাকে নতুন নীতিমালার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগের নির্দেশনায় রাতে সৈকতে উচ্চ শব্দ, অতিরিক্ত আলো এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সৈকতে আলোকসজ্জা করে বারবিকিউ আয়োজনের মতো কার্যক্রমও নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
এ ছাড়া দ্বীপের কেয়াবন এলাকায় প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বেচাকেনা এবং সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ ছিল।
সৈকত ও দ্বীপের পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ বিভিন্ন ধরনের মোটরচালিত যান চলাচলের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পর্যটকদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও সেন্ট মার্টিনের পরিবেশগত সুরক্ষাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করেই পর্যটন ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
চূড়ান্ত গাইডলাইন প্রকাশের পরই জানা যাবে—কতজন পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন, কোন সময়ে যেতে পারবেন এবং রাতযাপনের ক্ষেত্রে নতুন কী নিয়ম কার্যকর হবে।
GLOBAL 24




মন্তব্য