চলতি বছর ধাপে ধাপে দেশের ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, পাইলট কর্মসূচির প্রথম ধাপে এক লাখ ৪৭ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর চলতি বছর পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসছেন।
এর মধ্যে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন। একই অনুষ্ঠানে ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের মধ্যে প্রিন্ট করা কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখা হবে এবং আরও ৬৪টি উপজেলা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনায় সহায়তা করা এবং সরকারি কৃষি সহায়তা আরও সহজ ও সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে কৃষি খাতের উন্নয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে এই কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন এবং প্রস্তুতির অগ্রগতিও সন্তোষজনক।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য