থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে কর্মী নিয়োগ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় আশাবাদী চাকরিপ্রত্যাশীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক | GLOBAL 24
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে। দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০২৬ সালের ২৪ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজাবাত ইসারাভাকদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
কোন খাতে কাজের সুযোগ হতে পারে?
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের আলোচনা চললেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোন কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। নির্মাণ, কৃষি ও হালাল খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মীর চাহিদার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি, নিয়োগের সংখ্যা, বেতন এবং আবেদন শুরুর তারিখ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলো সম্ভাবনা হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
প্রায় ১০ হাজার কর্মীর সুযোগ কি নিশ্চিত?
এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় উঠে এসেছে। এটি চূড়ান্ত নিয়োগকোটা নয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নিয়োগের বিস্তারিত শর্ত ও সুযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন চাকরিপ্রত্যাশীরা?
থাইল্যান্ডে কাজ করতে আগ্রহীদের পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখা, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
চাকরি নিশ্চিত করার নামে কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি টাকা চাইলে তাদের বৈধতা ও নিয়োগের অনুমোদন যাচাই না করে অর্থ লেনদেন করবেন না।
নতুন শ্রমবাজার খুললে লাভবান হতে পারেন বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশের জন্য নতুন শ্রমবাজার তৈরি হওয়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। থাইল্যান্ডে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষ ও যোগ্য বাংলাদেশিদের সামনে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
তবে সুযোগটি বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করছে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক চুক্তি, নিয়োগের নিয়ম এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার ওপর।
সর্বশেষ তথ্য: থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়া ও আবেদন শুরুর তারিখ নিশ্চিত না হওয়ায় সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।






মন্তব্য