নাগোয়ার আকাশে তখন সন্ধ্যা নামছে, ক্রুজ শিপের ডেকে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আরচারি দলের সদস্যরা গুনছেন ক্লান্তির প্রহর। দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে যে বিশ্রামের আশায় তারা পা রেখেছিলেন জাপানের মাটিতে, সেই আশাই হোঁচট খেয়েছে এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থাপনায়। সৌদি আবর, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশের নির্ধারিত আবাসন পেতে সময় লেগেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আর মিললেও তা ছিল অপ্রতুল—রুম কম, বাথরুমেও নানা সংকট। ক্লান্ত শরীর আর বিরক্ত মন নিয়ে দলের সদস্যরা আয়োজক ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। ফল যা হওয়ার তাই হলো—এমন ঘটনায় চরম বিরক্ত হয়ে উল্টো বাংলাদেশকেই ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে কড়া ভাষার এক সতর্কতামুলুক চিঠি। বলা হয়েছে, এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ক্রুজ শিপ থেকে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, আর তখন নিজ দায়িত্বেই খুঁজে নিতে হবে মাথা গোঁজার ঠাঁই। এমন হুমকির মুখে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা মন্তব্যে করতে চাননি। বললেন, ‘সাংগঠনিক কমিটি আমাদের শেফ দ্য মিশনকে একটি চিঠি দিয়েছে। তিনি এ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। গেমসের সবকিছুই তার আওতাধীন।’ বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদের কণ্ঠে স্পষ্ট এক অস্বস্তি। তার ভাষ্য, সাংগঠনিক কমিটির চিঠিতে নেই কোনো নির্দিষ্ট নাম, নেই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ। তাই পাল্টা চিঠি দিয়ে তিনি চেয়েছেন ঘটনার ফুটেজ ও দায়ী ব্যক্তির পরিচয়—প্রমাণ ছাড়া যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব, সেই যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি। এরই মধ্যে আয়োজকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট, যদিও ক্ষোভের আগুন পুরোপুরি নেভেনি।
এ ভোগান্তির কেন্দ্রে থাকা নাম—জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। এ কোচ বয়সে প্রবীণ, অভ্যস্ত একলা রুমে থাকতে। কিন্তু ক্রুজে তার ভাগ্যে জোটেনি সেই স্বস্তিটুকু, ফলে মেজাজ হারানোটাই স্বাভাবিক ধরে নিচ্ছেন অনেকে। বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান জানিয়েছেন ভিন্ন কথা—অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, সাংগঠনিক কমিটি কিংবা এশিয়ান আরচারি, কেউই তাদের কাছে এখনো কিছু জানায়নি। তাই স্বাভাবিক কার্যক্রমই চলছে যথারীতি। তার প্রশ্নটাও যুক্তিসংগত—এত দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে রুমের জন্য অপেক্ষা করা, আর রুম না পেলে সামান্য উচ্চবাচ্য করা কি সত্যিই এতটা অস্বাভাবিক, বড় অপরাধ?
অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় সেই উষ্মা প্রকাশের মাত্রাকোন পর্যায়ে ছিল—জানা যাবে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে। এদিকে জানা যায়, ক্রুজে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত চারটি রুম অন্য একটি দল কাউকে অবহিত না করেই নিয়ে নেয়। আরচারিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রুজে কক্ষ বরাদ্দ করা সম্ভব হয়নি এ কারণে। বিষয়টি বাংলাদেশ দলের কারণেই ঘটেছে বলে আয়োজকরা তাদের সঙ্গে এমন রুঢ় আচরণ মেনে নেননি। সেই কারণেই কড়া ভাষার এ সতর্কতামুলুক চিঠি।






মন্তব্য